শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন

আমতলী প্রতিনিধি।। পূর্ণিমার জোঁর প্রভাবে জোয়ারের পানিতে তেঁতুলবাড়িয়া বাঁধ ভেঙ্গে তালতলীর ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত ছয় দিন ধরে জোয়ার ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলছে আমতলী ও তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নসহ উপকুলীয় অঞ্চলের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেলে ঘর বাড়ী এবং শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংঙ্কট। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। দ্রুত বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সরবরাহের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানাগেছে, পূর্ণিমার জোঁর প্রভাবে গত ছয় দিন ধরে সমুদ্রসহ তৎসংলগ্ন পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২০-২৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকুলী অঞ্চল আমতলী ও তালতলীর চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পায়রা নদী সংলগ্ন তেঁতুলবাড়িয়া এলাকার ১৫০ মিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে তালতলীর ১০ গ্রাম পানিতে তলিয়ে অন্তত শতাধিক ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে ওই অ লের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান রোজিনা আক্তার নামের এক নারী। বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের বাইরে বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়ী তলিয়ে যাওয়ায় তারা অতিকষ্টে জীবনযাপন করছে। গত ছয় দিন ধরে জোয়ার ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলছে আমতলী ও তালতলীর উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নসহ উপকুলের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপকুলীয় তালতলীর নিশানবাড়িয়া, ফকিরহাট, সোনাকাটা, নিদ্রাসকিনা, তেতুঁলবাড়িয়া, আশার চর,নলবুনিয়া, তালুকদারপাড়া, আগাপাড়া, চরপাড়া, গাবতলী, মৌপাড়া, ছোটবগী, জয়ালভাঙ্গা ও পচাঁকোড়ালিয়া গ্রামের নির্মা লের মানুষ পানি বন্দি। ওই সকল গ্রামে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংঙ্কট। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সরবরাহ করা হলেও তা পর্যান্ত নয়। ছড়িয়ে পরেছে পানি বাহিত রোগ। দ্রুত বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সরহবাহের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে গত ছয় দিন ধরে আমতলী পায়রা নদীর ফেরি গ্যাংওয়ে তলিয়ে মানুষ চরম দুর্ভোগে ফেরিতে উঠানামা করছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ দায়সারা ভাবে ফেরির গ্যাওয়ে ইটের শুরকি ফেললেও তা যথেষ্ট নয়। শনিবার বরগুনা জেলা পুলিশ সুপারসহ অন্তত অর্থ শতাধিক গাড়ী ফেরি ঘাটে দুই ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তেতুঁলবাড়িয়া গ্রামের কহিনুর, জায়েদা, খাদিজা, নাজমা ও নুরজাহান বলেন, মোরা জোয়ারে তলাই আর ভাডায় হুগাই। মোরা অনেক কষ্ট হরি। গুড়াগাড়া লইয়্যা ছয় দিন ধইর্যা খাইয়্যা না খাইয়্যা বাইচ্চা আছি। হ্যারপর কলের পানি নাই। সরকারের ধারে দ্রুত মোগো পানি ও খাবার দেয়ার দাবী জানাই ।
এই গ্রামের নুরজাহান বলেন, দুই ঘন্টা হাইট্টা যাইয়্যা কলের পানি আনছি। এলাকার হগল কল পানিতে ডুইব্ব্যা গ্যাছে।
পায়রা ফেরিঘাটের পরিচালক হাসান মিয়া বলেন, জোয়ারের পানিতে ফেরির গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন ও মানুষের ফেরিতে উঠা নামা করতে সমস্যা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিছু ইটের শুরকি দিলেও তার যথেষ্ট নয়।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম. সাদিক তানভীর বলেন, পানি বন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরন করা হয়েছে। আরো বিতরন করা হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply